মৃত্যুপথযাত্রীর পক্ষ থেকে লেখা যে চিঠি আপনাকে বদলে দিবে

এই চিঠিটি লিখেছেন ২৪ বছর বয়সী এক তরুণ যিনি জানেন তিনি আর অল্প কয়েকদিন পরই মারা যাবেন। বাজি ধরে বলা যায়, তিনি যে উপদেশমূলক অভিজ্ঞতা শেয়ার করে গেছেন তা আমাদেরকে নিজের জীবনটাকে আরো ভালো উপায়ে হ্যান্ডেল করতে শেখাবে।

কী লিখেছেন তিনি? তাহলে পড়ুন…

“আমার বয়স মাত্র ২৪ বছর। আমি শেষ টাইট পছন্দ করে রেখেছি। যা আমি আর কয়েক মাস পরে আমার শবযাত্রায় পরার জন্য বাছাই করেছি। এটি হয়তো আমার স্যুটের সঙ্গে মানানসই হবে না কিন্তু আমি মনে করি ওই উপলক্ষে এটাই হবে যথাযথ।

আমার ক্যান্সার ধরা পড়েছে এমন এক সময়ে এসে যখন আর তা চিকিৎসায় ভালো করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমি উপলব্ধি করি যে, মৃত্যুর ব্যাপারে সবেচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, এটা নিশ্চিত করা যে, দুনিয়াটাকে আপনি যেমন পেয়েছিলেন তার চেয়ে আরেকটু ভালো অবস্থানে রেখে গেছেন। অন্তত আপনার নিজের অবদানগুলোর মাধ্যমে।

এতদিন আমি যেভাবে বেঁচেছি, আমার অস্তিত্ব বা আরো সংক্ষেপে বললে আমি যেভাবে আমার জীবনের সময় হারিয়েছে তা অর্থহীনই রয়ে গেলে। কেননা আমি ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলতে সক্ষম তেমন কিছুই করিনি।

এর আগে অনেক কিছুই ছিল আমার মন দখল করে। কিন্তু যখন জানতে পারলাম আমি আর কয়দিন বাঁচবো তখন আমার সামনে পরিষ্কার হয়ে গেল যে জীবনে কোনটা আসলে সত্যিকার অর্থেই গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং নিজের স্বার্থের কারণেই আমি আপনাদের প্রতি এই চিঠি লিখছি। নিজের এই উপলব্ধিটুকু আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করে আমি আমার জীবনটাকে অর্থপূর্ণ করতে চাই: এমন কাজে নিজের সময় নষ্ট করবেন না যা আপনি উপভোগ করেন না। ধৈর্য্য, আবেগ এবং আত্মোৎসর্গ সম্ভভ তখনই যখন আপনি যা করেন তার প্রতি আপনার ভালোবাসা থাকে।

আর অন্যরা কী ভাববে তা নিয়ে ভয় পাওয়াটা বোকামি। ভয় আপনাকে দূর্বল এবং অচল করে দিবে। আপনি যদি এই ভয় পেতে থাকেন তাহলে একদিন দেখবেন যে তা দিনকে দিন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে এবং একটা সময়ে গিয়ে আপনি আর আপনার নিজের মতো নেই বরং আপনার একটা খোলসই শুধু টিকে আছে।

সুতরাং নিজের ভেতরের স্বরটির কথা শুনুন এবং সে অনুযায়ী কাজ করুন। এতে হয়তো অনেকে আপনাকে পাগালাটে ভাবতে পারে তবে অনেকে আবার আপনাকে একজন কিংবদন্তী গণ্য করবেন। নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নিন। আপনার জীবন যেসব ঘটে সেসবে পূর্ণ দায়-দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে নিয়ে নিন। বাজে অভ্যাস কমিয়ে আনুন এবং আরো স্বাস্থ্যকর একটি জীবন-যাপনের চেষ্টা করুন। এমন কোনো খেলা খুঁজে বের করুন যেটি আপনাকে সুখী করে। আর সবচেয়ে বড় কথা কোনো কিছুতে গড়িমসি করবেন না। আপনি নিজে যেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন শুধু সেসব সিদ্ধান্তকেই আপনারা জীবনের আদলটাকে গড়ে তুলতে দিন। যেসব সিদ্ধান্ত আপনি গ্রহণ করেননি সেসব সিদ্ধান্তকে আপনা নিজের জীবনটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে দিবেন না।

আপনার চারপাশের মানুষদের মূল্যায়ন করুন। আপনার বন্ধু এবং আত্মীয়রাই সবসময় আপনার জন্য শক্তি ও ভালোবাসার সীমাহীন উৎস হবে। আর এই কারণেই তাদের অবহেলা করা উচিত নয়। এসব সরল উপলব্ধির গুরুত্ব সম্পর্কে আমার অনুভূতি ভাষায় পুরোপুরি প্রকাশ করাটা আমার জন্য বেশ কঠিন। কিন্তু আমি আশা করি আপনারা এমন কারো কথা অবশ্যই শুনবেন যার এই অভিজ্ঞতা হয়েছে যে, সময় কতটা মূল্যবান। আমি আর মর্মাহত বা দুঃখিত নই। কারণ আমার জীবনের শেষ দিনগুলো অর্থপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমার শুধু একটাই আক্ষেপ আমি হয়তো কুত্রিম বুদ্ধিমত্তা সৃষ্টি দেখে যেতে পারবো না বা এলোন মাস্কের পরবর্তী প্রকল্প দেখে যেতে পারবো না। আমি আরো আশা করি সিরিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধও হয়তো শিগগিরই শেষ হবে।

আমরা জীবনের শেষদিন পর্যন্ত নিজেদের দেহের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য নিয়ে এতটাই ব্যতি ব্যস্ত থাকি যে আমরা দেখতেই পাই না আমাদের দেহটি একটি বক্স ছাড়া আর কিছুই নয়। যা আমাদের ব্যক্তিত্ব, চিন্তা, বিশ্বাস এবং অভিপ্রায়গুলো দুনিয়ার প্রতি চালান করার একটি পার্সেল মাত্র।

এই বক্সে যদি দুনিয়াকে বদলে দেওয়ার মতো কিছুই না থাকে তাহলে এটি অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পর লোকে আর এটির কথা মনে রাখবে না। আমি বিশ্বাস করি আমাদের সকলের মধ্যেই দুনিয়াকে বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু বিষয়টি উপলব্ধি করার জন্যও বিশাল সাহসের দরকার হয়।

আপনি হয়তো পরিবেশ-পরিস্থিতির মাধ্যমে সৃষ্ট একটি জীবনের মধ্য দিয়ে ভেসে যেতে পারেন। গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিয়ে দিনের পর দিন, ঘন্টার পর ঘন্টা পার করে দিতে পারেন। অথবা আপনি যা বিশ্বাস করেন তার জন্য লড়াই করতে পারেন বা আপনার জীবনের সেরা গল্পটা লিখতে পারেন। আমি আশা করি আপনারা সঠিক বিষয়টিই পছন্দ করবেন। এই দুনিয়ায় নিজের কোনো নজির রেখে যান। একটি অর্থপূর্ণ জীবন-যাপন করুন। অর্থপূর্ণ বলতে আপনি ডাই বুঝেন না কেন। নিজের বুঝ নিয়েই সামনে এগিয়ে যান।

আমরা যেখানে বাস করছি তা একটি সুন্দর খেলার মাঠ। যেখানে সবই সম্ভব। তথাপি আপনি এখানে চিরদিন থাকবেন না। আমাদের জীবনটা এই সুন্দর গ্রহে একটি ছোট আলোর ঝলকানির মতো। যা অবিশ্বাস্য গতিতে অজানা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সীমাহীন অন্ধকারের দিকে উড়ে যাচ্ছে। সুতরাং এখানে নিজের সময়গুলো আবেগের সঙ্গে উপভোগ করুন। একে আরো উপভোগ্য করুন। একে গোনায় ধরুন! ধন্যবাদ!”

সূত্র: বোল্ডস্কাই

Share

হার্ট ও রক্ত চলাচল ভাল রাখে বেদানার জুস!

Next Story »

সকালের নাস্তায় ৭টি স্বাস্থ্যকর খাবার

Leave a comment

LifeStyle

  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কাঁচামরিচ!

    6 months ago

    রান্নাঘরের অন্যতম প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো কাঁচামরিচ। রান্নায় বা সালাদে তো বটেই, কেউ কেউ ভাতের সঙ্গে আস্ত কাঁচামরিচ খেতেও পছন্দ করেন। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে ...

    Read More
  • নিম পাতার গুণাগুণ

    6 months ago

    নিমগাছের পাতা, তেল ও কাণ্ডসহ নানা অংশ চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নানা রোগের উপশমের অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে এ গাছের। এ লেখায় থাকছে তেমনই কিছু ব্যবহার। ম্যালেরিয়া ...

    Read More
  • ডায়েটের কিছু ভুল

    6 months ago

    আজকাল মোটা হওয়া যেন কারোই পছন্দ না। কিন্তু ডায়েট করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছেন না অনেকেই। কারণ, ডায়েটের সময় আমরা এমন কিছু ভুল করি যেগুলোর জন্য মেদ কমাতো ...

    Read More
  • পুষ্টিগুণে ভরপুর আনারসের জুস

    6 months ago

    আনারস শুধু সুস্বাদের জন্যই নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। রসালো এ ফল জুস তৈরি করেও খাওয়া যায়। সারাদিন রোজা রেখে সুস্থ থাকতে অসংখ্য পুষ্টিগুণে ভরপুর আনারসের জুস যেমন ...

    Read More
  • অ্যাসিডিটিতে এখন যেমন খাবার…

    6 months ago

    রোজার মাসে সবাই যেন খাবারের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। সারা দিন না খাওয়ার অভাবটুকু ইফতারে পুষিয়ে নেওয়ার জন্য কি এই প্রতিযোগিতা? কে কত খেতে বা রান্না করতে পারে। ...

    Read More
  • ইফতারে স্বাস্থ্যকর ফল পেয়ারা

    6 months ago

    প্রতিদিনের ইফতারে ভাজাপোড়া কম খেয়ে বিভিন্ন ফল খাওয়া উত্তম বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই আপনার ইফতারে থাকতে পারে অতি পরিচিত এই ফলটি। প্রতিদিন মাত্র ১টি পেয়ারা আপনার ...

    Read More
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় লেবুর শরবত

    6 months ago

    গরমে যখন তীব্র দাবদাহে ক্লান্ত, ঠিক তখনই ইফতারে এক গ্লাস লেবুর শরবত হলে প্রাণটা জুরিয়ে যায়। শুধু শরবত হিসেবেই নয়, ওজন কমাতেও অনেকেই লেবুর শরবত খান। কিন্তু ...

    Read More
  • অ্যালার্জি ও সর্দি হয় যে কারণে

    6 months ago

    সাধারণত যারা বেশি পরিমাণে ঘরের বাইরে থাকেন তাদের মধ্যে সর্দি বা এলার্জির পরিমাণ বেশি লক্ষ্য করা যায়। তবে ঘরের ভেতরে অনেক বস্তু রয়েছে যেগুলো কারো মধ্যে এলার্জি ...

    Read More
  • প্রতিদিন কাঁচা পেঁয়াজ খেলে কি উপকার হয়?

    6 months ago

    ‘যত কাঁদবেন, তত হাসবেন’- পেঁয়াজের ক্ষেত্রে এই কথাটা দারুণভাবে কার্যকরী। কারণ এই সবজি কাটতে গিয়ে চোখ ফুলিয়ে কাঁদতে হয় ঠিকই। কিন্তু এই প্রাকৃতিক উপাদানটি শরীরেরও কম উপকার ...

    Read More
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় হলুদ

    6 months ago

    রান্নাে মশলা হিসেবে অতি পরিচিত হলুদ। ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ভিটামিন কে, ক্যালসিয়াম, কপার, আয়রনের পাশাপাশি এতে আছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি অক্সিডেণ্ট, অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিকারসিনোজেনিক, অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি ...

    Read More
  • Read

    More