ঝিনাইদহে পুলিশের এসআই ও গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা
বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট ২০১১

ঝিনাইদহে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পুলিশের এক এসআইসহ দুইজন সন্ত্রাসীর হাতে নিহত হয়েছেন। পুলিশের এসআই হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঝিনাইদহ
শহরের কাঞ্চননগর পাড়ার মোহাম্মদ রাব্বি, ইমরান হোসেন ও আবু তালেব নামের তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। নিহতরা হচ্ছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মিরাজুল ইসলাম (৪২) ও মহেশপুর উপজেলার জিন্নানগর গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা গৃহবধূ শিউলী খাতুন (২১)। এসআই মিরাজকে হত্যার পর সন্ত্রাসীরা নিয়ে গেছে তার ব্যবহৃত রিভলবার ও ১৪ রাউন্ড গুলিসহ ওয়াকিটকি। মিরাজুল ইসলাম স্ত্রী রাশিদা বেগম (৩০) এবং দুই ছেলে তামিম (১৪) ও রানিম (১২) কে নিয়ে ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর উকিলপাড়ার ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
ঝিনাইদহ সদর থানার ডিউটি অফিসার ফিরোজা কুলসুম জানান, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মিরাজুল ইসলামকে সন্ত্রাসীরা মঙ্গলবার রাতে অপহরণের পর কুপিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। বুধবার সকালে মিরাজুল ইসলামের লাশ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামের মাঠের একটি কলাগাছের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার পর ঝিনাইদহ সদর থানা থেকে বের হয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক মিরাজুল ইসলাম পিস্তল ও ওয়াকিটকিসহ অপহৃত হন। এ সময় তিনি জরুরি কাজ সেরে ঝিনাইদহ থেকে ডাকবাংলা পুলিশ ক্যাম্পে ফিরছিলেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর পরই ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ ও র্যাব অপহৃত এসআই মিরাজকে উদ্ধারের জন্য যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। তবে ঠিক কোন সময়ে মিরাজকে হত্যা করা হয়েছে সে সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। নিহত মিরাজুল ইসলাম কুষ্টিয়া জেলার খোকশা উপজেলার বিহারীয়া গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
এসআই মিরাজ হত্যার ব্যাপারে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার রেজাউল করিম জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় এসআই মিরাজুল ইসলাম মোটরসাইকেলে ঝিনাইদহের ডাকবাংলা পুলিশ ক্যাম্পের দিকে যাচ্ছিলেন। তার কাছে একটি পিস্তল ও ওয়াকিটকি ছিল। এসআই মিরাজ রাত ৮.৫৫ মিনিট পর্যন্ত তার মোবাইলফোন থেকে বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেছেন। এরপর তার আর কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। পরে রাত সাড়ে ৯টায় চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের কাছে এসআই মিরাজের মোটরসাইকেলটি দুর্ঘটনায় পতিত হলে অপহরণকারীরা মোটরসাইকেলটি ফেলে পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ সন্দেহজনকভাবে ইমরান (১৫) ও রাব্বি (১৭) নামের দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। মোটরসাইকেলের সিটের সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে এসআই মিরাজের ব্যবহৃত টুপি পাওয়া গেলে পুলিশ নিশ্চিত হয় এসআই মিরাজকে অপহরণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মিরাজকে উদ্ধারের জন্য রাতেই ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে অভিযান চালায়। কিন্তু এসআই মিরাজুলকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
অপরদিকে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঝিনাইদহ শহরে এসআই মিরাজুলের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা দুর্ঘটনায় পতিত হয়। মোটরসাইকেলের সিটের সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে এসআই মিরাজুলের ব্যবহৃত টুপি পাওয়া গেলে পুলিশ নিশ্চিত হয় তাকে সন্ত্রাসীরা অপহরণ করেছে। তিনি আরও জানান, তালেব নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে মিরাজুলের ছিনতাই করা মোটরসাইকেলটি দুর্ঘটনায় পতিত হয়। এ সময় রাব্বি ও ইমরান নামের আরও দুই যুবক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। তাদের তিনজনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। গতকাল বুধবার সকালে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর দুপুরে পুলিশ লাইন ও আরাপপুরে দুই দফা জানাযা শেষে লাশ দাফনের জন্য লাশ তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায় পাঠানো হয়।
তবে হত্যার কারণ সম্পর্কে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ১০টি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন মিরাজুল। সত্য উদ্ঘাটিত হওয়ার কারণে কোনো সন্ত্রাসী চক্র তাকে হত্যা করতে পারে।
এদিকে পুলিশ এইআই মিরাজুলের সঙ্গে থাকা তার ব্যবহৃত পুলিশের ৯.৬২ এমএম পিস্তল, ১৪ রাউন্ড গুলি ও ওয়াকিটকি পুলিশ এখনও উদ্ধার করতে পারেনি।
অন্যদিকে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার জিন্নানগর গ্রামে মঙ্গলবার রাতে শিউলী খাতুন (২১) নামের এক স্বামী পরিত্যক্তা গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। নিহত শিউলী জিন্নানগর গ্রামের বিশারত আলীর মেয়ে।
মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. খলিলুর রহমান জানান, শিউলী খাতুন রাত ১০টার দিকে নলকূপে পানি আনতে গেলে আগে থেকে ওেপতে থাকা অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। স্থানীয় দত্তনগর পুলিশ ক্যাম্পের তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক জমির উদ্দীন জানান, বিগত চার বছর আগে নিহত শিউলী খাতুনের জীবননগর উপজেলার শাপলাকলি পাড়ার উজ্জ্বল খাঁ নামের এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয়। স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় দুই বছর আগে তাকে তালাক দেয় শিউলী। বর্তমানে শিউলী নিজ বাপেরবাড়ি জিন্নানগরে থেকে দর্জির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। তবে এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।
সর্বশেষ আপডেট বুধবার, ৩০ নভেম্বর -০০১ ০০:০০
Add comment