রাষ্ট্রদুদ একরামুল কাদের কে টেক্সাস বাংলাদেশ কমুউনিটির উষ্ণ অভ্যর্থনা।
Sunday, 20 May 2012 06:26
শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০১১
(বাংলাদেশী ডটকম):যুক্তরাস্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাস্ট্রদূত মাননীয় জনাব আকরামুল কাদের ও বেগম কাদের মে ১৬ ও ১৭ তারিখে টেক্সাসের হিউস্টন সফরে আসেন। হিউস্টনে এটাই ছিল তার প্রথম সফর। হিউস্টনে অবতরনের পর তাকে উষ- সম্বর্ধনা জানান হিউস্টনের বাংলাদেশীরা। সেই সাথে তাকে দেয়া হয় হিউস্টনের মেয়র এ্যানিস পার্কারের পক্ষ থেকে একটি স্বাগতম চিঠি এবং উপহার।

১৬ই মে তে অপরাহে রাস্ট্রদূত হিউস্টনের প্রথম এবং একমাত্র বাংলাদেশী কমিউনিটি সেন্টার - বাংলাদেশ-আমেরিকান সেন্টারটি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে সম্মিলিত বাংলাদেশী এবং হিউস্টন শহরের প্রতিনিধি ও টেক্সাস অঙ্গ রাজ্যের বিশিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সাথে সাক্ষাত করেন। এখানে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন হিউস্টনের পক্ষ থেকে চেয়ারমান জনাব আফজাল আহমেদ তাকে সম্মান সূচক এসোসিয়েশনের আজীবন সদস্যপদ হিসাবে সার্টিফিকেট ও সেই সাথে ১৯৭১ থেকে ২০১০ পর্যন্ত এসোসিয়েশনের অর্জন এবং কার্যক্রমের উপর তৈরী করা একটি মনোরম এ্যালবাম প্রদান করেন। সেন্টারের পরিচালক জনাব হাসান রহমান মাননীয় রাস্ট্রদূতকে সেন্টারের একটি প্রতীক চাবি প্রদান করেন।

মাননীয় রাস্ট্রদূত তার ভাষণে বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের অকৃত্রিম দেশপ্রেম এবং বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসাবে গড়ে তোলবার জন্য সক্রিয় সহযোগিতার প্রশংসা করেন। বিশ্ব জলবায়ু উষ্ণতা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ যে ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুক্ষীন হতে চলেছে সে সম্পর্কে তিনি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষন করেন। অন্যান্য এল,ডি,সি, দেশকে যে সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়, বাংলাদেশের সাথে বৈরীতা না করে যেন একই সুযোগ দেয়া হয় এই মূল্যবান দাবীটি তিনি বেশ জোরের সাথে তুলে ধরেন এবং সব প্রবাসী বাংলাদেশীকে অনুরোধ করেন তারা যেন এই বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংবাদ মাধ্যম অথবা লেখালেখীর মাধ্যমে তুলে ধরেন।
তিনি এরপর বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের নতুন করে নির্মিত ওয়েব সাইট (www.bangladesh-association.com) উদ্ধোধন করেন। অতপর তিনি সেন্টারে সদ্য নির্মিত শহীদ মিনারটি উদ্বোধন করেন। সেখানে তিনি খালি পায়ে শহীদ মিনারের বেদীতে ফুল প্রদান করেন এবং ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। এখানে উল্লেখ্য যে বাংলাদেশ সেন্টারের এই চার একর জমি হিউস্টনের বাংলাদেশীরা নিজেদের টাকায় কিনে ফেলেছে এবং যার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনা করার জন্য মৌখিকভাবে রাজী হয়েছেন নোবেল বিজয়ী ডঃ মুহম্মদ ইউনুস।
১৬ই মে সারাদিন বাংলাদেশ সেন্টারে দুতাবাসের কনসুলেট বিভাগ স্থানীয় ভাবে পাসপোর্ট ও ভিসা সম্পর্কিত বিষয়ে আগত জনতাকে দক্ষতার সাথে সাহায্য করেন এবং মাননীয় রাস্ট্রদূত সেই কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। সেদিন সন্ধ্যায় একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে হিউস্টনবাসী বাংলাদেশীদের আয়োজিত সম্বর্ধনা সভায় মাননীয় রাস্ট্রদূত প্রশ্নোত্তর পর্বে একতা ও সংঘবদ্ধভাবে কাজ করবার জন্য সকল বাংলাদেশীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি বলেন যে হিউস্টনবাসীদের আতিথেয়তায় তিনি মুগ্ধ এবং যারপরনাই সম্মানিতবোধ করেছেন। তিনি হিউস্টনের বাংলাদেশীদের উচ্ছসিত প্রশংসা করেন এবং ধৈর্য ধরে তাদের সব প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বিদেশে বসবাসকারি বাংলাদেশীদের মধ্যে মতানৈক্য ও বিভাগের প্রবনতা লক্ষ্য করে দুঃখ প্রকাশ করেন।
১৭ই মেতে জনাব আকরামুল কাদের ও বেগম কাদের হিউস্টনের বিশ্ববিখ্যাত নাসার জনসন স্পেস সেন্টার পরিদর্শন করেন। সে সময়ে তাদের অত্যন্ত সম্মানের সাথে বরন করে নেন জনসন স্পেস সেন্টারের চীফ অব স্টাফ এবং বর্তমান ফ্লাইট ডিরেক্টর। কেন্দ্রে কর্মরত বাংলাদেশী কর্মীরা তাদের সাথে মিলিত হন এবং কেন্দ্রটি পরিদর্শনকালে তাদের সহযোগী হন। কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে মাননীয় রাস্ট্রদূতকে একটি সৌজন্যমূলক উপহার দেওয়া হয়- যার মধ্যে উল্লেখ্য ছিল একটি বাংলাদেশের পতাকা, যেটি মহাশুন্যচারীদের সাথে মহাশুন্য বিচরণ করে এসেছে। হিউস্টনবাসী বাংলাদেশীরা মাননীয় রাস্ট্রদূতের এই মনোজ্ঞ সফরের জন্য তার কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ এবং তারা আশা করে যে ভবিষ্যতেও তিনি আবার তাদের শহর সফর করবেন।
সর্বশেষ আপডেট শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০১১ ০৬:২৭