ভারতের সীমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার আন্না হাজারেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আমরণ অনশন শুরুর আগে গতকাল দিল্লি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছে।
জেলেই তিনি অনশন শুরু করেছেন। আন্না হাজারের প্রধান তিন সহচরসহ অন্তত ১ হাজার ৩০০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আন্না হাজারে তার সমর্থকদের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, গ্রেফতার করে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন দমানো যাবে না। তিনি বলেন, সরকার যে আচরণ করছে তাতে মনে হচ্ছে দেশে এখন জরুরি অবস্থা ফিরে
এসেছে।
আন্না হাজারে ভারতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক গণআন্দোলন শুরু করেছেন। ৭৪ বছর বয়সী আন্না হাজারে একজন সমাজকর্মী।
দুর্নীতিবিরোধী গণআন্দোলন শুরু করায় তিনি এখন ভারতে সবচেয়ে আলোচিতদের একজন।
দুর্নীতিবিরোধী সরকারের প্রস্তাবিত বিলটি বাতিল করে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবিতে গতকাল দ্বিতীয় দফা অনশন শুরুর কথা ছিল আন্না হাজারের। আন্না হাজারে প্রস্তাবিত বিল সম্পর্কে বলেছেন, এটা জনগণের সঙ্গে এক নির্মম কৌতুক ছাড়া আর কিছুই নয়। দুর্নীতি প্রতিরোধে এমন আইন করতে হবে, যে আইনে প্রধানমন্ত্রী, বিচারপতি, সংসদ সদস্যসহ অন্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এলে তা তদন্ত করা যাবে।
সরকারের প্রস্তাবিত দুর্নীতিবিরোধী ‘লোকপাল বিল’ প্রত্যাহারের দাবিতে পূর্ব ঘোষিত অনশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভারত সরকার। সরকারের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে গতকাল থেকে অনশনের ঘোষণা দেন আন্না হাজারে। দিল্লি পুলিশ আন্না হাজারেকে অনশন করার ব্যাপারে কয়েকটি শর্ত দেয়। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে তিনদিনের বেশি অনশন করা যাবে না। অনশন কর্মসূচিতে ৫০০’র বেশি লোক অংশ নিতে পারবে না। পুলিশের এই শর্ত মানতে রাজি না হওয়ায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, দিল্লি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গতকাল সকালে আন্না হাজারের ফ্ল্যাটে যান এবং তাকে জানান যে, তিনি বাড়ির বাইরে যেতে পারবেন না। এ সময় তার বাসভবনের বাইরে তার শত শত সমর্থক পতাকা উঁচিয়ে সমবেত হয়। গ্রেফতার হওয়ার আগে আন্না হাজারে তার ভাষণে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যেতে তার সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি তাদের শান্ত থাকারও আহ্বান জানান। আন্না হাজারে তার সমর্থকদের বলেন, আমি আপনাদের প্রতি অনুরোধ করছি, আপনারা কোনো সহিংসতায় লিপ্ত হবেন না। আমি জাতির কল্যাণে প্রয়োজনে ‘জেল ভরো আন্দোলন’ শুরু করব। হাজারে বলেন, জরুরি অবস্থার সময় যা ঘটেছিল এখনও তাই ঘটছে। দেশে আবার জরুরি অবস্থা ফিরে এসেছে।
আন্না হাজারের সঙ্গে প্রধান ৩ সহচর অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কিরণ বেদি ও মনীষ সিসোদিয়াকেও পুলিশ নিরাপত্তামূলক হেফাজতে নিয়েছে। কিরণ বেদি রাজঘাটে গ্রেফতার হওয়ার সময় বলেন, তাকে গ্রেফতার করা অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক। আন্না হাজারেকে ৭ দিনের জন্য আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বিবিসি জানিয়েছে, আন্না হাজারেকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হচ্ছে। পুলিশ এ পর্যন্ত আন্না হাজারের অন্তত ১ হাজার ৩০০ সমর্থককে আটক করেছে।
আন্না হাজারেকে তিহার জেলে রাখা হয়েছে। তিনি গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে অনশন শুরু করেছেন। আন্না হাজারের সমর্থকদের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, গ্রেফতারের পর থেকে তিনি পানি পর্যন্ত স্পর্শ করেননি। আন্না হাজারের গ্রেফতার সম্পর্কে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বলেছেন, প্রতিবাদকারীরা পুলিশের দেয়া নিয়মনীতি মানতে চায়নি বলে তাদের আটক করা হয়েছে। এখানে শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা ছিল।
এদিকে দিল্লি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, আন্না হাজারেকে জেলে পাঠানো আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি জামিনের জন্য বেলবণ্ডে পর্যন্ত সই করতে রাজি হননি। বাধ্য হয়েই তাকে জেলে পাঠাতে হয়েছে।