গাদ্দাফির অনুগত সেনাদের সঙ্গে লিবিয়ার বিদ্রোহী বাহিনীর শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেছে। বানি ওয়ালিদ শহরে বিনা অস্ত্রে প্রবেশ করার শর্ত দিলে লিবিয়ান বিদ্রোহী বাহিনী তা প্রত্যাখ্যান করার পর পরই এ সমঝোতা ভেস্তে যায়।
এখন বিদ্রোহী বাহিনী চূড়ান্ত হামলা করার জন্য নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
বিদ্রোহীদের এক মুখপাত্র আবদুল্লাহ কানশিল, যিনি সমঝোতা আলোচনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তিনি রোববারের শেষ দিকে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, গাদ্দাফির প্রধান মুখপাত্র মুসা ইব্রাহিম বনি ওয়ালিদ শহর থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে বিদ্রোহীদের নিরাপত্তা চৌকি থেকে জানিয়েছে, শহরে প্রবেশ করতে হলে বিনা অস্ত্রে ঢুকতে হবে।
আবদুল্লাহ কানশিল এ সময় মন্তব্য করেন, ‘আমরা বানি ওয়ালিদ শহরবাসীর জন্য দুঃখিত।’ তিনি নিজেও একজন এই শহরবাসী হিসেবে দাবি করে বলেন, ‘দেশের জন্য সবচেয়ে ভালোটাই আশা করি।’ আবদুল্লাহ কানশিল সংবাদ মাধ্যমকে জানান, মুসা ইব্রাহিম গাদ্দাফির অনুগত বাহিনীর ভারী অস্ত্রশস্ত্রে বেষ্টিত হয়ে শহরের ভেতরের অংশে ছিলেন।
এ ঘটনার পর থেকে বানি ওয়ালিদ শহরবাসী ভীষণভাবে আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছেন বলে সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে। তারা আশঙ্কিত, যে কোনো মুহূর্তে যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে এবং এতে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন। এদিকে লিবিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জানিয়েছে, কর্নেল গাদ্দাফির ছেলে খামিস নিহত হয়েছে। ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এনটিসি) জানায়, খামিস লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির কাছে এক যুদ্ধে নিহত হয়েছে এবং বানি ওয়ালিদ শহরের কাছে তাকে সমাহিত করা হয়েছে। তবে এখনও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
বানি ওয়ালিদ শহরটি লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। গাদ্দাফি বাহিনী এখন বানি ওয়ালিদসহ মাত্র ৪টি শহর দখলে রাখতে পেরেছে। বাকি ৩টি শহর হচ্ছে জুফরা, সাভা এবং গাদ্দাফির জন্মস্থান সিরতে।
অপর দিকে এনটিসি চেয়ারম্যান মুস্তাফা আবদেল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গাদ্দাফির অনুগত বাহিনীকে মানবিক সাহায্য দেয়া হচ্ছে এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে তাদের আত্মসমর্পণের সময় দেয়া হয়েছে। বনি ওয়ালিদ গাদ্দাফি অনুগতদের দখলে থাকলেও শহরটি ঘিরে রেখেছে বিদ্রোহী পক্ষের সেনারা। গাদ্দাফিবিরোধী একজন অন্যতম সমঝোতা প্রচেষ্টাকারী বিবিসিকে জানান, শহরটির অধিবাসীরা গুলির ভয়ে শহর ত্যাগ করতে পারছে না। তিনি আশঙ্কা করছেন, অধিবাসীদের তারা (গাদ্দাফি অনুগত) মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
তিনি বলেন, গাদ্দাফি অনুগত বাহিনী তার সেনাদের (বিদ্রোহী সেনা) নিরস্ত্র অবস্থায় শহরে প্রবেশ করার দাবি জানিয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, বিষয়টি এখন তিনি তার সেনা কমান্ডারদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। সমঝোতার প্রচেষ্টাকারী আবদুল্লাহ কেনচিল বলেন, গাদ্দাফি অনুগতদের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে এবং শুরুর আর সম্ভাবনা নেই। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি সেনা কমান্ডারদের ওপরই এ সমস্যা সমাধানের বিষয়টি ছেড়ে দিচ্ছি।’ এদিকে গাদ্দাফির এক ছেলে সাদি গাদ্দাফি তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে জানিয়েছে, সাইফ আল ইসলামের জন্যই আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। সিএনএনকে সাদি বলেন, গত কয়েকদিন আগে সাইফ আল ইসলামের উস্কানিমূলক কথাবার্তার জন্যই আলোচনার সম্ভাবনা ভেস্তে গেছে। বনি ওয়ালিদ থেকে খানিক দূরে মার্কিন ওই সংবাদ সংস্থাকে সাদি এই কথা বলেন। এর আগে কেনচিল বিবিসিকে বলেন, বনি ওয়ালিদের দুই কর্নেল ও অন্য বাহিনীগুলো এখনও হুমকি। তিনি বলেন, তাদের অস্ত্র সমর্পণে রাজি করানোর জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এটি তাদের সেনা সামর্থ্যের জন্য নয়, সাধারণ জনগণের জন্য হুমকি বিধায় এই চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কেনচিল বলেন, ‘আমরা চাই না বনি ওয়ালিদের কারও কোনো ক্ষতি হোক। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সেখানে যেতে চাই, জনগণ নিরাপদ থাকবে—তা চাই। কিন্তু তা না হলে তাদের (জনগণ) মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে কিংবা সমর্থন না করলে তাদের ওপর প্রতিশোধ নিতে পারে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘মানুষ এমন কি বাজারেও যেতে পারছে না। আমরা জনগণকে বলেছি, এই শহরে প্রবেশ কিংবা শহর ছেড়ে যাওয়ারও প্রয়োজন নেই।’